একটি প্রফেশনাল মানের ব্লগ ওয়েবসাইটে অ্যাডসেন্স অনুমোদন দ্রুত পেতে আপনার যা করা উচিত, আজকে আমি সেই বিষয় নিয়ে সম্পূর্ণ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখব। সাথে থাকছে অ্যাডসেন্স কি সে বিষয়ে আলোচনা।

আশা করি সঙ্গেই থাকবেন। হয়তো পোস্টটি আপনার অনেক উপকারে আসতে পারে।

 

 

আবারও বলছি আমি যা লিখব সম্পূর্ণ আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে। আমি কিভাবে অ্যাডসেন্স অনুমোদন পেলাম।

কতবার চেষ্টা করার পর গুগল মামা আমাকে তাঁদের এড সাভির্সের জন্য উপযুক্ত বলে অনুমোদন দিয়েছে আজকে তার খুঁটিনাটি লিখব ইনশাআল্লাহ্।

শুরুর প্রথমে জেনে নেয়া যাক যে, অ্যাডসেন্স আসলে কি?

অ্যাডসেন্স কি? (What is AdSense?)

অ্যাডসেন্স হচ্ছে অনলাইনে বিজ্ঞাপনের সবচাইতে বড় একটি প্লাটফর্ম যা সরাসরি গুগল টিম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

এটি এক ধরণের অ্যাড নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেটের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ জুড়ে গুগলের বিস্তৃতি থাকায় বিশ্বস্ততায় এর থেকে বড় কোন অ্যাড নেটওয়ার্ক আছে বলে আমার জানা নেই।

একটি ব্লগ থেকে Ads এর মাধ্যমে আয় করার জন্য অ্যাডসেন্স একটি আদর্শ নাম। অনেকেই আছেন যারা এর মাধ্যমে অনলাইন থেকে অনেক পরিমাণ আয় করছেন।

যদি আপনার একটি ব্লগ থাকে তো এতে অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে আপনিও আপনার অনলাইন যাত্রা শুরু করতে পারেন।

তাহলে,

বুঝতে পারলেন তো অ্যাডসেন্স কি?

এবার চলুন জেনে নিই যে, কোন কৌশলগুলো অবলম্বন করলে আমরা সহজেই দ্রুততার সাথে অ্যাডসেন্স অনুমোদন পেতে পারি।

 

দ্রুত অ্যাডসেন্স অনুমোদন পেতে করণীয়

১। ডোমেইন নাম নির্বাচন

আপনি যে বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল দক্ষতা রাখেন সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি সুন্দর ও সহজবোধ্য ডোমেইন নাম নির্বাচনের চেষ্টা করুন।

সবসময় চেষ্টা করবেন আপনার ডোমেইন নেইম যেন ৫-১৫ ক্যারেক্টারের মধ্যে হয়।

 

২। একটি ভালমানের হোস্টিং সেবা নির্বাচন

আপনার ওয়েবসাইটটি যে জায়গায় হোস্ট করবেন সেটি যেন খুব ভালমানের হয়। কেননা হোস্টিং দুর্বল হলে আপনাকে অনেক বেশি বেগ পোহাতে হবে।

আবার হোস্টিং এর কারণে ওয়েবসাইট দ্রুত লোডিং না হলে আপনি অনেক পরিমাণ ট্রাফিক হারাতে পারেন।

ডোমেইন এবং হোস্টিং কিভাবে কাজ করে জানতে পড়ুন,

ডোমেইন ও হোস্টিং কি? কিভাবে কাজ করে? (জানুন A to Z)

 

৩। ব্লগের বয়স

আজকে গাছ লাগাবেন আর কালকেই ফল ধরবে; আর সেই ফল পেড়ে খাবেন খুব সহজেই!

কি মনে হয় এতটায় সহজ!

বুঝলাম, আপনি একজন ভালমানের ব্লগার, সুন্দর সুন্দর কনটেন্ট লিখতে পারেন। কিন্তু ভাই প্রথম দিকে আপনি কি এত সুন্দর কনটেন্ট লিখতে পারতেন?

একটু ভাবুন তো। যদি উত্তর না হয় তবে ভাবুন আপনি একটি ওয়েবসাইট আজকে বানালেন আর কালকেই তাতে অ্যাডসেন্স নেবার জন্য আবেদন করলেন।

বিষয়টা কেমন হয়ে গেল নাহ্!

মনে রাখবেন গুগল টিম আপনার আমার থেকে কয়েক শত গুন বেশি দক্ষ। হয়তো আরও বেশি বললেও ভুল হবে না।

সুতরাং তাঁদেরকে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করা আর বোকার স্বর্গে বাস করা একই কথা।

সাধারণত ডিজাইনসহ প্রাথমিক কিছু কাজ সম্পন্ন করে একটি ওয়েবসাইটকে দাঁড় করাতে সর্বনিম্ন দেড়-দুই মাস সময় লেগে যায়।

আবার গুণগত দিক বিচার করে বেশ কয়েকটি পোস্ট লিখতে হয়। সেক্ষেত্রে ৩০ টি পোস্ট লিখতে হয়তো ১৫-৩০ দিন লেগে যতে পারে।

তিন মাস পার হবার পর আপনার সাইটটি মোটামোটি রেডি।

এখন আপনি আবেদন করতে পারেন। তবে তার আগে ওয়েবসাইটের প্রতিটি পোস্টকে গুগল সার্চ কনসোল (ওয়েবমাস্টার টুলস) এ ইনডেক্স করাতে হবে।

খুব ভালভাবে চেক করবেন। কেননা গুগল অনেক বেশি সজাগ। তাই শতভাগ নিশ্চিত হবার পরই কেবল আপনি আবেদন করতে পারেন।

অনেকেই বলে থাকেন যে ওয়েবসাইট এর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হবার পূর্বে আবেদন করা যাবে না। আবেদন করলেও তা অনুমোদন পাবে না।

এই বিষয়টি মোটেই ঠিক নয়।

 

আমার বিষয়টি দেখুন। আশা করি বুঝতে পারবেন।

আল্লাহর রহমতে আমি প্রায় ৫ মাসেই অ্যাডসেন্স অনুমোদন পেয়েছি। গুগল অ্যাডসেন্স টিম আমার প্রথম আবেদন রিজেক্ট করে দেয়।

তাঁদের মন্তব্য ছিল, লো ভ্যালু কনটেন্ট (Low Value Content)। বর্তমান সময় বেশিরভাগ আবেদনই এই বিষয়টি উল্লেখ করেই রিজেক্ট করে দিচ্ছে গুগল টিম।

আমার চেষ্টা অনুযায়ী সমস্যাগুলো সলভ করে দ্বিতীয়বার আবেদন দাখিল করি। আবারও একই বিষয়কে উপস্থাপন করে আমার আবেদনটি রিজেক্ট করা হয়।

পুনঃরায় বিষয়টি নিয়ে নেটে তুমুল হারে ঘাটাঘাটি শুরু করে দেই এবং বুঝে বুঝে সমস্যাগুলো সলভ করি। সেই সাথে দেখি আমার ওয়েবসাইটে অর্গানিক ট্রাফিক বাড়তে থাকে।

আর তৃতীয় বারের মাথায় গুগল টিম আমাকে তাঁদের অ্যাড সার্ভিসের জন্য অনুমোদন দেয়।

এর থেকে আমি যা বুঝলাম, গুগল টিমের কাছে অর্গানিক ট্রাফিকের ভ্যালু সব থেকে বেশি। ব্লগের বয়স অ্যাডসেন্স অনুমোদন পাবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোন ফ্যাক্টর নয়।

আপনি যদি ২ মাসের মধ্যেই গুগল টিমের সবগুলো শর্ত পূরণ করতে পারেন তো ২-৩ মাসের একটি ওয়েবসাইটেও অ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া সম্ভব।

তবে আমার মতে একটু সময় দিয়ে ব্লগে অর্গানিক ট্রাফিক আসা শুরু হলে গুগলের প্রাইভেসী পলিসি অনুসরণ করে আবেদন দাখিল করুন।

আশা করি আপনার আবেদনটি রিজেক্ট হবে না।

 

৪। ব্লগে পোস্টের পরিমাণ

গুগল অ্যাডসেন্স প্রাইভেসী পলিসির কোন অংশে এটা বলা হয় নাই যে অ্যাডসেন্স পেতে আপনার ওয়েবসাইটে ২০টি বা ৩০টি পোস্ট থাকতে হবে।

পোস্ট সংখ্যা কোন ফ্যাক্টর নয়। তবে পোস্টগুলো অবশ্য অবশ্যই ইউনিক হতে হবে। দ্রুত অ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার জন্য পোস্টের পরিমাণ এবং আর্টিকেলে শব্দের সংখ্যা কেমন হওয়া দরকার তা জানতে পড়তে থাকুন…

একটি ওয়েবসাইটের প্রাণ হচ্ছে তার কনটেন্ট। সুতরাং কনটেন্টবিহীন একটি ওয়েবসাইটকে রক্তমাংশবিহীন একটি কঙ্কালের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

অ্যাডসেন্স দ্রুত অনুমোদন পাবার জন্য আপনাকে অবশ্যই কয়েকটি ইউনিক পোস্ট আপনার ওয়েবসাইটে রাখতেই হবে।

খুব করে খেয়াল রাখবেন আপনার পোস্টের মাঝে যেন নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে।

  • সম্পূর্ণ ইউনিক কনটেন্ট। ইউনিক বলতে আপনার কনটেন্টটি যেন ইন্টারনেটের দুনিয়ায় আপনার ওয়েবসাইট ব্যতিত অন্য কোথাও হুবহু পাওয়া না যায়।
  • কনটেন্ট এ ব্যবহৃত ইমেজ/অডিও কিংবা ভিডিও সম্পূর্ণ কপিরাইট ফ্রি হতে হবে। কপিরাইট ফ্রি ছবি/ভিডিও ডাউনলোড করতে ভিজিট করতে পারেন pexels.com, unsplash.com, pixabay.com.
  • কনটেন্টটি যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য সমৃদ্ধ হতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০০ কিংবা ২০০০ শব্দের পোস্ট লেখার চেষ্টা করুন। শব্দ গুনে পোস্ট লেখার দরকার নাই। আপনার কনটেন্টকে যথার্থ প্রাণবন্ত করে তুলুন।
  • দ্রুত অনুমোদন পাবার জন্য কনটেন্টকে এসইও ফ্রেন্ডলী করে লেখুন।
  • আপনার প্রতিটি পোস্টকে গুগল ওয়েব মাস্টার টুলস (গুগল সার্চ কনসোল) এ সাবমিট করুন।
  • এমন কোন পোস্ট লিখবেন না যা অ্যাডসেন্স প্রাইভেসী পলিসির বিরুদ্ধে যায়। তাহলে কিন্তু কোন ক্রমেই অ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া সম্ভব নয়।

৫। ভিজিটর কত হওয়া দরকার?

ধরুন আপনি একটি দোকান করলেন। কিন্তু আপনার দোকানে কাস্টমার আসে না। আপনি কি পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন?

অবশ্যই না। তাহলে একটি ওয়েবসাইটে যদি ভিজিটর না থাকে তাহলে ওয়েবসাইট থেকে আপনার লাভ কি হবে, হুম?

সুতরাং ওয়েবসাইটে ভিজিটর থাকতেই হবে। আপনি যথার্থ তথ্য সমৃদ্ধ ইউনিক কনটেন্ট লিখুন। দেখবেন ভিজিটর দিনের পর দিন আপনার ওয়েবসাইটে বাড়তেই থাকবে।

তবে দ্রুত অ্যাডসেন্স অনুমোদন এর জন্য খুব বেশি পরিমাণ ভিজিটর জরুরী নয়। প্রতিদিন মোটামুটি ২০-৫০ জন অর্গানিক ট্রাফিক ওয়েবসাইটে আসলেই আবেদন করে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে।

৭। ব্লগের ডিজাইন

আপনি জানেন মানুষ সৌন্দর্যের পূজারী। সুন্দরকে কে না ভালবাসে বলুন? তাহলে গুগল অ্যাডসেন্স টিম কি এর ব্যতিক্রম? অবশ্যই না।

একটি সুন্দর এবং সহজে নেভিগেট করা যায় এমন ওয়েবসাইট গুগল পছন্দ করেন। তবে খুব হাই কোয়ালিটির ডিজাইন দরকার নাই।

সাদামাঠা ডিজাইন, ভিজিটর যেন আপনার সাইট ভিজিট করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেই বিষয়টি খেয়াল রেখে ওয়েবসাইট ডিজাইন করুন।

এরকম ওয়েবসাইট অ্যাডসেন্স পেতে খুবই সহায়ক হবে।

তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন খুব বেশি হাই কোয়ালিটির ডিজাইন করতে গিয়ে যেন আপনার ওয়েবসাইট হ,য,ব,র,ল না হয়ে যায়।

তাহলে কিন্তু বিপদে পড়তে পারেন।

৮। ওয়ার্ডপ্রেস নাকি ব্লগার ?

ভাই কোনটি দিয়ে ওয়েবসাইট বানাব? ওয়ার্ডপ্রেস নাকি ব্লগার?

 

adsense-wordpressadsense-wordpressWordPress                    OR                     Blogger

adsense-blogger

 

দেখুন ভাই এ বিষয়ে অ্যাডসেন্স প্রাইভেসী পলিসিতে বিধিনিষেধ করা হয় নাই।

অর্থাৎ আপনি যে কোন একটি সিএমএস দিয়েই আপনার ওয়েবসাইটকে বিল্ড করতে পারেন। তবে যদি আপনার কোডিং না জানা থাকে তবে অনেক রিসোর্স সমৃদ্ধ একটি সিএমএস দিয়ে ওয়েবসাইট বানান।

তাহলে কোন সমস্যায় দ্রুত সমাধান পেয়ে যাবেন।

এক্ষেত্রে আমি ওয়ার্ডপ্রেসকে প্রাধান্য দেই। তবে ব্লগার যেহেতু গুগল এর সার্ভিস তাই নিঃসন্দেহে আপনি ব্লগার দিয়েও আপনার ওয়েবসাইট গড়তে পারেন।

আশা করি অ্যাডসেন্স পেতে কোনরূপ সমস্যা হবে না।

৯। আবশ্যিক পেইজ সংযোজন

গুগল অ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্য অবশ্যই নিচের পেইজগুলো ওয়েবসাইটের হেডার কিংবা ফুটারে সংযোজন করতে হবে।

মনে রাখবেন এই পেইজগুলো ছাড়া গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করা আপনার সম্পূর্ণরূপে বৃথা চেষ্টা হবে।

তাই সুন্দর করে নিচের পেইজগুলো বানিয়ে নিন।

  • About Us
  • Contact Us
  • Privacy Policy
  • Terms & Conditions (আমি এই পেইজটি ছাড়ায় আবেদন করি এবং অ্যাপ্রুভাল পেয়ে যাই )

দেখুন যদি প্রথম বারেই অ্যাডসেন্স অনুমোদন পেতে চান তবে উপর্যুক্ত বিষয়গুলো ঠিক করার পর চাইলে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিন।

গুগল টিম কৃর্তৃক প্রদত্ত অ্যাডসেন্স প্রোগ্রাম নীতি ভালভাবে পড়ে নিন এখান থেকে

যদি নতুন হয়ে থাকেন তো গাইডলাইন দেখুন

প্রকাশকদের জন্য বিধিনিষেধ দেখুন এখানে


বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই পোস্টটি গত মাসের (01-09-2021) ইং তারিখে প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কারও ইনভ্যালিড ক্লিক অ্যাক্টিভিটির কারণে একাউন্টটির সমস্যা ঘটে যায়।

 


যার ফলে সেই সময় পোস্টটি প্রকাশ করতে পারি নাই। সবার প্রতি একটা অনুরোধ কারও উপকার করতে না পারলেও অন্তত ক্ষতির চেষ্টা করবেন না।

তো বন্ধুরা, উপরের নিয়মগুলো অনুসরণ করলে আপনার ওয়েবসাইটে সহজেই অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পেতে পারেন। এর পরেও সমস্যার সম্মুখীন হলে কমেন্ট করে জানাবেন।

আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব সঠিক এবং যথোপযুক্ত তথ্য উপস্থাপন করতে। ধন্যবাদ।

আপনার জন্য রিকমেন্ডেড পোস্ট; পড়তে পারেন,

 

অনলাইন আয়ের সেরা সব কৌশল

 

 

আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।


0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *