স্মার্ট ফোনের আসক্তি বর্তমানে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কিংবা ব্ল্যাক হোলকেও হার মানাবে বলে মনে হচ্ছে। তরুণ সমাজ একবার এতে আসক্ত হলে তাকে কোনভাবেই বের করা সম্ভব হচ্ছে না (একটু ব্যতিক্রম রয়েছে)।

প্রযুক্তির উন্নয়ন সভ্যতার বিকাশকে করেছে প্রাণবন্ত। স্মার্টফোন বর্তমান প্রযুক্তিরই একটি বিশেষ অংশ। তাই প্রযুক্তির আকাশচুম্বী উন্নয়নে তরুণ প্রজন্ম আজ স্মার্টফোনের প্রতি পুরো আসক্ত।

মোবাইল-আসক্তি

সকাল থেকে শুরু করে সন্ধা কিংবা মধ্যরাত প্রতিটা সময় স্মার্ট ফোন নিয়ে ব্যস্ত আজ তরুণ সমাজ। খাবার কথাও যেন ভুলে যায় অনেক সময়।

তবে এই আসক্তি থেকে বেরিয়ে না আসলে একটি জাতির ভবিষ্যতে কতটা নেগেটিভ ফল আসতে পারে এবং কিভাবে এর প্রভাব থেকে দূরে বহুদূরে থাকা সম্ভব?

এসব বিষয় নিয়েই আজকে আমরা আলোচনা করতে চলেছি।

দেশকে, দেশের জনগণকে বাঁচাতে হলে তরুণ প্রজন্মকে স্মার্ট ফোনের আসক্তি থেকে টেনে বের করতেই হবে।

এটা প্রায়ঃশই বলা হয়ে থাকে আজকের তরুণ আগামীর কর্ণধার। সুতরাং যে কোন উপায়েই তরুণ সমাজকে এই নেশা থেকে টেনে আনতে হবে।

নতুবা আগামীর দিনগুলোতে অমানিষার ঘোর অন্ধকার নেমে আসার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

চলুন জেনে নেই যে, মোবাইল আসক্তি আসলে কি? আর সেই সাথে মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে থাকার উপায় কি?

মোবাইল আসক্তি কি ইন্টারনেট আসক্তির মত কিছু?

আসক্তি বলতে সাধারণত সেই সব জিনিসের ব্যবহারকে বোঝানো হয়ে থাকে যেগুলো একবার গ্রহণ করার মাধ্যমে মস্তিষ্কের নানাবিধ পরিবর্তন ঘটায়।

তাহলে মোবাইল আসক্তি কি? মোবাইল আসক্তি আর মোবাইল নেশা অনেকটা একই কথা।

তবে ফেসুবক আসক্তি বর্তমানে মারাত্মক আকার ধারণ করছে। ফলে তরুণরা বিশেষভাবে ঝুঁকে পড়ছে ফেসবুক নিয়ে।

দেখুন একজন তরুণ একটি ফোন হাতে পাবার পর টিকটক, লাইকি নিয়ে সদা ব্যস্ত। পড়ার টেবিলে মন কিছুতেই বসে না।

ফেসবুক চ্যাটিং এ বন্ধুরা তাকে ঘিরে ধরেছে। গল্পালাপ চলতে চলতে কখন যে প্রেমালাপ শুরু করেছে বেচারি বেমালুম ভুলে গেছে।

এই অবস্থায় তাকে খাবার কথা বলা হলে শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করে ‘হুম’ । কেন জানি মনে হয় সে ঘুমের ঘোরে আছন্ন। আর অবেচতন মনেই বলে দেয় শব্দটি।

তাহলে একটি ফোন হাতে পাবার পর তরুণটির যে অবস্থা একে আমরা মোবাইল আসক্তি বলতে পারি।

তবে ইন্টারনেট আসক্তি মোবাইল আসক্তি থেকে একটু ব্যতিক্রম। দেখুন, আপনি একটি ফোন কিংবা কম্পিউটার দিয়ে ফেসবুক চ্যাটিং করছেন।

অথবা, টিকটক লাইকিতে ভিডিও বানাচ্ছেন। আর তা না হলে ইন্টারনেট জুড়ে কিছু অনুসন্ধান করছেন।

এই যে ইন্টারনেট জুড়ে সারাক্ষণ আপনার আনাগোনা এটা কি ইন্টারনেট আসক্তি নয়?

অবশ্যই হ্যাঁ । তবে মোবাইল আসক্তি থেকে একটু ভিন্নতর।

আপনি পছন্দ করতে পারেন এমন পোস্ট,

সোশ্যাল মিডিয়ায় সুরক্ষিত থাকার উপায়

চলুন আমরা এবার জানব এই করুণ আসক্তির ফলে তরুণ কতটা ক্ষতির সম্মুখে?

 

মোবাইল আসক্তির ভয়াবহ ফলাফল

মোবাইল আসক্তির ফলে যে সব ক্ষতির সম্মুখে তরুণ সমাজ একটু দেখে নিন।

  • নোমোফোবিয়া নাম শুনছেন কখনও? এটি ভয়জনিত একটি অসুখ। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার করার ফলে এই অসুখটি দেখা দেয়। আমার দামি ফোনটা যে কোথায় রাখলাম! এই যে ভয় এখান থেকেই এই অসুখের সৃষ্টি। এর পূর্ণরূপ হচ্ছে নো-মোবাইল ফোন ফোবিয়া।

  • মায়োপিয়া বা ক্ষীণ দৃষ্টি ত্রুটির কারণ হতে পারে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার করা।

  • মোবাইল থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মি শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে আনতে পারে এমনটা বলেছেন গবেষকরা। সুতরাং যারা অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার করেন তাদের পরবর্তীতে নানাবিধ সমস্যা হতে পারে।

  • রাস্তাঘাটে অনেক তরুণকে দেখা যায় কানে হেডফোন লাগিয়ে তা থৈ তা থৈ করে নাচতে নাচতে চলা। এটা যে তাকে কত বড় ক্ষতির সম্মুখে নিয়ে যাচ্ছে বেচারি বুঝতেও পারে না। সুতরাং অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার করার ফলে শ্রবণ শক্তি অনেকাংশ কমে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

  • অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে তরুণ সমাজের মাঝে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটি দেখা যায় তা হচ্ছে ঘুম না হওয়া। জানি না কোন রমণী কেড়ে নেয় দু-চোখের ঘুম😛

  • অতিরিক্ত ফোনের ব্যবহার জীবনকে একাকিত্ব এবং নিঃসঙ্গতায় ভরে দেয়।

এবার চলুন জেনে নেব যে, কিভাবে এই আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা যায়?

 

মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির পথ

মোবাইল আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা অনেকগুলো উপায় অবলম্বন করতে পারি। তবে সবার আগে আমাদের প্রয়োজন পড়বে প্রবল ইচ্ছাশক্তি।

 

অনাকাঙ্খিত নোটিফিকেশন বন্ধ করা

আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনে স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে থাকি। অনেক সময় দেখা যায় নোটিফিকেশনের পর নোটিফিকেশন চলে আসছে।

ফোন ভাইব্রেন্ট মোডে অথবা সাইলেন্ট যে অবস্থায় থাকুক না কেন; নোটিফিকেশন এসে উপরে কিংবা নিচে অথবা স্ক্রিণের বিভিন্ন অংশে ঝুলতে থাকে।

এখন নরমাল মোডে থাকলে নোটিফিকেশন আসার সাথেই একটা রিংটন বেজে ওঠে। আর সেই সাথে মনে হয় খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু এসেছে।

আর দ্রুত ফোন হাতে নিয়ে দেখা যায় ততটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নয়। এতে করে পড়ালেখা কিংবা কোন বিশেষ কাজে মনোনিবেশ করা থাকলে মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

তাই স্মার্ট ফোনের আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখা উচিত। খুব গুরুত্বপর্ণূ হলে সাইলেন্ট মোডে রাখতে পারেন।

তাতে করে নোটিফিকেশন আসার পর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকবে। আর শব্দ না হবার কারণে কাজের মনোযোগ নষ্ট হবে না।

পরবর্তীতে ফ্রি সময়ে দেখে নিতে পারেন আপনার গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশনগুলো।


অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে ফেলুন

বিশেষ প্রয়োজনেই সাধারণত স্মার্ট ফোন ব্যবহার করা হয়। অনেক ফোনেই দেখা যায় নানান রকমের অ্যাপ ইনস্টল করা থাকে।

এই অ্যাপগুলোর না কোন গঠনমূলক উপকার আছে। আর না এগুলো খুব বেশি প্রয়োজনীয়।

এই অ্যাপগুলো ফোনে রাখলে কোন না কোন সময় এগুলো নিয়ে মাথায় চিন্তা আসবে। ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হতে পারে।

তাই প্রয়োজন ব্যতিত বাড়তি অ্যাপ স্মার্ট ফোন থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।


ঘুমানোর আগে ফোন বন্ধ করুন

ঘুম আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। ঠিকভাবে ঘুম না হলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। ঘুমানোর আগে ফোন বন্ধ না করলে অনাকাঙ্খিত ফোন আসার কারণে আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

ঘুমানোর কমপক্ষে ১ ঘন্টা আগে ফোনের সুইচ বন্ধ করে নিন। তাতে ঘুমের মাঝে ব্যাঘাত ঘটার কোন সম্ভাবনা থাকে না।


নিজেকে নিয়ে সমালোচনা করুন

আত্মসমালোচনা অথবা আত্মপর্যালোচনা যাই বলেন না কেন এটা কিন্তু প্রত্যেক মানুষেরই বিশেষ গুণাবলির একটি হওয়া উচিত।

নিজেকে নিয়ে সমালোচনার মধ্য দিয়ে নিজের ভুলগুলো সংশোধন করার এক মোক্ষম উপায় চলে আসে।

অনেক নিয়ম অনুসরণ করার পরেও দেখা যাবে ফোনের জন্য মন উতলা হয়ে গেছে। নরমালি চেষ্টা করুন দিনের ১ ঘন্টা আপনি ফোন ছাড়া চলবেন।

এভাবে কয়েকদিন চেষ্টা করুন। আর অভ্যস্ত হয়ে গেলে সময়টা বাড়িয়ে নিন। এভাবে পর্যায়ক্রমে নিজেকে কন্ট্রোল করে চললে আপনি খুব শীঘ্রই মোবাইল ফোনের তীব্র আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।


আশা করি , মোবাইল আসক্তি কি এবং মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে অনেকটা ধারণা পেয়ে গেছেন।

পরিশেষে একটি কথা,

নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিই কেবল এই ধরণের আসক্তি থেকে মুক্তি লাভের মোক্ষম উপায়।

দেখুন তো মজার কিছু কি না?

এবার পানিতে হবে ফোন চার্জ । কি আজব কথা মাইরি!

পৃথিবীর ৫ রহস্যময় ঘটনা যা শুনলে আপনি হতবাক হয়ে যাবেন!


0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *